
থাইল্যান্ড ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা বাংলাদেশীদের জন্য ২০২৫। এখন দেশের রিমোট ওয়ার্কার, ফ্রিল্যান্সার এবং অনলাইন উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত সুযোগগুলোর একটি।
যারা ল্যাপটপ নিয়ে সমুদ্রের ধারে বসে কাজ করতে চান, নতুন দেশে কাজের স্বাধীনতা উপভোগ করতে চান—তাদের জন্য থাইল্যান্ড ২০২৫ সালে আরও সুবিধাজনক ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা প্রক্রিয়া চালু করেছে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন শত শত রিমোট কর্মী ও স্বাধীন পেশাজীবী থাইল্যান্ডকে বেছে নিচ্ছেন কম খরচ, সহজ লাইফস্টাইল, দ্রুত ই-ভিসা সিস্টেম এবং শক্তিশালী নেটওয়ার্কিং সুবিধার কারণে। এই গাইডে আমরা থাইল্যান্ড ডিজিটাল নোম্যাড ভিসার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, খরচ, আবেদন প্রক্রিয়া এবং ২০২৫ সালের আপডেট নিয়মগুলো বিস্তারিতভাবে জানবো।
⭐ ১. ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা কী? (Digital Nomad Visa Basics)
ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা হলো এমন একটি রেসিডেন্স/এন্ট্রি ভিসা, যা বিদেশি নাগরিকদের অনলাইনে কাজ বা ফ্রিল্যান্সিং করতে দেয়, কিন্তু লোকাল কোম্পানির চাকরি করার অনুমতি দেয় না।
বাংলাদেশী রিমোট ওয়ার্কার, ফ্রিল্যান্সার, ইউটিউবার, এডিটর, প্রোগ্রামার—সবাই এ ধরণের ভিসা ব্যবহার করতে পারে।
⭐ ২. কেন বাংলাদেশীদের জন্য থাইল্যান্ড ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা ২০২৫-এ সেরা সুযোগ?
থাইল্যান্ডকে ২০২৫-এ ডিজিটাল নোম্যাডদের সবচেয়ে পছন্দের দেশ বানিয়েছে—
- ৬ Mbps ইন্টারনেট থেকে এখন গড় স্পিড ৩০০+ Mbps
- খাবার সস্তা
- ফ্লাইট কম খরচ (ঢাকা–ব্যাংকক ১৬,০০০–২২,০০০)
- সেফ দেশ
- কোওয়ার্কিং স্পেস সস্তা
- নোম্যাড কমিউনিটি বিশাল
- বাংলাদেশের মানুষদের প্রতি বন্ধুসুলভ আচরণ
⭐ ৩. থাইল্যান্ড ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা বাংলাদেশীদের জন্য ২০২৫: বর্তমান অফিসিয়াল স্ট্যাটাস
Thailand freelancer visa for Bangladesh. ২০২৫ অনুযায়ী থাইল্যান্ড আলাদা ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা চালু করেনি, তবে নিচের ভিসাগুলো নোম্যাডদের জন্য সবচেয়ে ব্যবহারযোগ্য:
1️⃣ Thai Tourist Visa (উচ্চ ঝুঁকি ছাড়াই কাজ করা যায়)
- ৩০ দিন অন-অ্যারাইভাল
- ৩০ দিন এক্সটেনশন
- মোট ৬০ দিন বৈধ
2️⃣ 60-Day Tourist Visa (Bangkok Embassy থেকে)
- বাংলাদেশ থেকে আবেদন করা যায়
- ৬০ দিন + ৩০ দিন এক্সটেনশন
- মোট ৯০ দিন

থাইল্যান্ড ভিসা নিয়ে আরোও পড়ুন- থাইল্যান্ড ভিসা বাংলাদেশীদের জন্য ২০২৫ – সম্পূর্ণ গাইড ও সর্বশেষ নিয়ম
3️⃣ Long-Term Resident Visa (LTR Visa) — ডিজিটাল নোম্যাড টাইপ
এটি থাইল্যান্ডের অফিসিয়াল ভিসা
এ ক্যাটাগরি: Highly Skilled Professionals + Remote Workers
যোগ্য হলে ১০ বছরের ভিসা পাওয়া যায়।
4️⃣ Smart Visa (Smart “T”)
টেক-স্টার্টআপ, ফাউন্ডার, IT ফ্রিল্যান্সারদের জন্য।
মেয়াদ: ১–৪ বছর
👉 বাংলাদেশীদের জন্য সবচেয়ে Realistic এবং Practical অপশন:
✔ Tourist Visa (60–90 days)
✔ LTR Visa (Remote Workers)
⭐ ৪.থাইল্যান্ড ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা ২০২৫: বাংলাদেশীদের জন্য আবেদন যোগ্যতা (Eligibility)
✔ 1. Remote Worker / Freelancer / Online Income
- Upwork, Fiverr, Remote job, Tech job ঠিক আছে
- লোকাল থাই কোম্পানির চাকরি করা যাবে না
✔ 2. মিনিমাম আয়
LTR Remote Work ভিসার জন্য:
- USD 80,000 বার্ষিক ইনকাম অথবা
- বিশেষ IT স্কিল থাকলে USD 40,000+
Tourist ভিসায় কোনো আয় প্রমাণ বাধ্যতামূলক নয়।
✔ 3. পাসপোর্ট
- এক্সপায়রি কমপক্ষে ৬ মাস বাকি
✔ 4. ব্যাংক স্টেটমেন্ট
টুরিস্ট ভিসার জন্য:
- ৫০,০০০–৭৫,০০০ টাকা ব্যালেন্স
LTR ভিসার জন্য: - বেশি প্রয়োজন (আয় প্রমাণ)
✔ 5. হোটেল বুকিং
Booking.com / Agoda থেকে ফ্রি-ক্যানসেলেশন ভর্তি বুকিং দিলেই হয়।
✔ 6. রিটার্ন টিকিট
নোম্যাডদের ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে রিটার্ন টিকিট বাধ্যতামূলক।
সস্তায় টিকেট কিভাবে কাটবেন তা জানতে পড়ুন- সস্তা এয়ার টিকিট বুকিং টিপস বাংলাদেশ থেকে ২০২৫

⭐ ৫. বাংলাদেশীদের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস — থাইল্যান্ড ডিজিটাল নোম্যাড ভিসার শর্ত
📄 Tourist Visa (60/90 Days) (থাইল্যান্ড রিমোট ওয়ার্ক ভিসা)
- পাসপোর্ট
- ছবি
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট
- টিকেট
- হোটেল বুকিং
- এনওসি (চাকরি থাকলে)
- ভ্রমণ ইতিহাস (যদি থাকে)
📄 LTR Visa
- রিমোট কোম্পানির চাকরির প্রমাণ
- ইনকাম প্রমাণ
- কনট্রাক্ট
- ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স
- আইটি/টেক স্কিল সার্টিফিকেট
⭐ ৬. থাইল্যান্ড ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা ফি (২০২৫)
✔ Tourist Visa Fees
- Single Entry: ৩,৫০০ টাকা (সমমান)
- Extension: ১,৯০০ Baht
✔ LTR Visa Fee
- 50,000 Baht (এককালীন)
⭐ ৭. থাইল্যান্ড ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া ২০২৫ (Step-by-Step Guide)
🔹 Option–1: Tourist Visa (Best for Digital Nomads)
1️⃣ Bangkok Embassy Website → Visa Form
2️⃣ ডকুমেন্ট আপলোড
3️⃣ ৩,৫০০ টাকা পেমেন্ট
4️⃣ ৫–৭ দিনে ভিসা
5️⃣ থাইল্যান্ডে গিয়ে ৩০ দিন এক্সটেনশন (১,৯০০ Baht)
🔹 Option–2: LTR Visa (Remote Professionals)
1️⃣ BOI Website-এ প্রাক-অনুমোদন
2️⃣ ইনকাম ও চাকরির প্রমাণ যাচাই
3️⃣ ২০–৩০ দিনে অনুমোদন
4️⃣ ইমিগ্রেশনে গিয়ে ভিসা স্ট্যাম্প
5️⃣ ১০ বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি
⭐ ৮. ২০২৫ সালে বাংলাদেশীদের ভিসা ফি ও টাইমলাইন
- টুরিস্ট: ৬০ দিন + ৩০ দিন = ৯০ দিন
- LTR: ১০ বছর
- ওয়ার্ক পারমিট: লোকাল কোম্পানি ছাড়া দেওয়া হয় না
পড়ুন- ৫০,০০০ টাকায় দুবাই ট্যুর ২০২৫ – বাংলাদেশিদের জন্য সম্পূর্ণ বাজেট গাইড
⭐ ৯. থাইল্যান্ড ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা নিয়ে বাংলাদেশীদের সাধারণ ভুল
❌ রিটার্ন টিকিট না নেওয়া
❌ হোটেল বুকিং না করা
❌ ২০,০০০–৩০,০০০ Baht ক্যাশ না রাখা
❌ আয় প্রমাণ না থাকা
❌ মিথ্যা ডকুমেন্ট
⭐ ১০. থাইল্যান্ডে জীবনযাপন খরচ- থাইল্যান্ড ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা
✔ ব্যাংকক (মাসিক):
- রুম: ১৮,০০০–২৫,০০০
- খাবার: ১২,০০০
- ট্রান্সপোর্ট: ৩,০০০
- মোট: ৩৫,০০০–৪২,০০০ টাকা
✔ চিয়াং মাই — নোম্যাডদের স্বর্গ
- রুম: ১০,০০০–১৫,০০০
- খাবার: ৮,০০০
- মোট: ২৩,০০০–৩০,০০০ টাকা

⭐ ১১. থাইল্যান্ড ডিজিটাল নোম্যাড ভিসায় গিয়ে কোথায় থাকবেন?
সেরা তিন জায়গা:
- প্রথমত, চিয়াং মাই: এটি সবচেয়ে সস্তা এলাকা, তাই বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য সেরা।
- অন্যদিকে ব্যাংকক: সব ধরণের নাগরিক সুবিধার জন্য এটি বেছে নিতে পারেন।
- এছাড়া সমুদ্রের পাশে কাজের জন্য: ফুকেট বা ক্রাবি হতে পারে আপনার আদর্শ গন্তব্য।
এরপরের গন্তব্য পাই: ৩য় সপ্তাহে পাহাড়ঘেরা এই ছোট শহরটি ঘুরে দেখুন।
ভ্রমণের সমাপ্তি ফুকেট বা ক্রাবিতে: শেষ সপ্তাহটি সমুদ্রের পাশে রিলাক্স করে কাটান।
⭐ ১২. ইন্টারনেট, কোওয়ার্কিং, সেফটি
- ইন্টারনেট: ৩০০–৯০০ Mbps
- কোওয়ার্কিং: ৫০০–৮০০ টাকা/দিন
- সেফটি: চরম নিরাপদ
⭐ ১৩. ট্যাক্স রুল
যদি কাজের ইনকাম থাইল্যান্ড থেকে জেনারেট না করেন, তবে এটি সম্পূর্ণ ট্যাক্স ফ্রি (Tax-free)।
⭐ ১৪. নোম্যাডদের আয় উৎস
- Upwork
- Fiverr
- YouTube
- Affiliate
- Remote job
- AI-based Content Editing
⭐ ১৫. ৩০ দিনের বাজেট (থাইল্যান্ড ডিজিটাল নোম্যাড ভিসা )
৫০,০০০–৭০,০০০ টাকা যথেষ্ট চিয়াং মাইতে।
১৬. নোম্যাড ইটিনারারি (৩০ দিন)
- শুরুটা হোক ব্যাংকক দিয়ে: (১ম সপ্তাহ) শহরটির জাঁকজমক ও সুবিধা উপভোগ করুন।
- এরপরের গন্তব্য চিয়াং মাই: (২য় সপ্তাহ) এখানে খরচ কম এবং পরিবেশ শান্ত।
- তৃতীয় ধাপে: পাই এলাকাটি ঘুরে দেখতে পারেন (৩য় সপ্তাহ)।
- ভ্রমণের শেষ অংশ: ফুকেট বা ক্রাবি দিয়ে শেষ করুন (৪র্থ সপ্তাহ), যেখানে সমুদ্রের পাশে কাজ করা যাবে।
১৭. থাইল্যান্ড ডিজিটাল নোম্যাড ভিসায় বাংলাদেশীদের জন্য বৈধতা ও ঝুঁকি
- লোকাল চাকরি নিষিদ্ধ
- ক্লায়েন্ট অবশ্যই বিদেশি হতে হবে
- ইমিগ্রেশন প্রশ্ন করলে সত্য বলুন:
✔ “I work remotely for a foreign company.”
১৮. প্রো টিপস
- আগোডায় লং-স্টে বুকিং নিন
- AIS SIM নিন
- Grab + Bolt ব্যবহার করুন

১৯. জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: বাংলাদেশীরা কি থাইল্যান্ডে ডিজিটাল নোম্যাড হিসেবে থাকতে পারে?
হ্যাঁ, পর্যটক ভিসায় ৯০ দিন থাকা যায়। LTR ভিসায় ১০ বছর পর্যন্ত।
প্রশ্ন ২: থাই ইমিগ্রেশন কি ল্যাপটপ দেখে জিজ্ঞাসা করে?
না, সাধারণত না। শুধু টিকেট ও হোটেল দেখে।
প্রশ্ন ৩: থাইল্যান্ডে ফ্রিল্যান্সিং কি বৈধ?
হ্যাঁ, যতক্ষণ আপনার ক্লায়েন্ট বিদেশি, এবং আপনি লোকাল চাকরি করছেন না।
প্রশ্ন ৪: রিমোট জব প্রমাণ লাগবে কি?
LTR ভিসার জন্য—হ্যাঁ।
টুরিস্ট ভিসার জন্য—না।
প্রশ্ন ৫: বাংলাদেশীদের রিজেকশন রেট কেমন?
ডকুমেন্ট ঠিক থাকলে খুব কম।
