(সর্বশেষ আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫) ভ্রমণপিপাসু প্রতিটি মানুষের স্বপ্ন থাকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ানোর। বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া অনেক সময় জটিল ও সময়সাপেক্ষ মনে হতে পারে। বাংলাদেশী পাসপোর্টে ভিসা ফ্রি দেশ ২০২৫
তবে সুখবর হলো, ২০২৫ সালেও এমন অনেক দেশ রয়েছে যেখানে বাংলাদেশী নাগরিকরা কোনো পূর্ববর্তী ভিসা ছাড়াই (Visa Free) অথবা বিমানবন্দরে পৌঁছে ভিসা (Visa on Arrival) নিয়ে ভ্রমণ করতে পারেন। বাংলাদেশী পাসপোর্টে ভিসা ফ্রি দেশ ২০২৫
এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৫ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশী পাসপোর্টে ভিসা ফ্রি, অন-অ্যারাইভাল এবং ই-ভিসা সুবিধাপ্রাপ্ত দেশগুলোর তালিকা, ভ্রমণের শর্তাবলী এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বিস্তারিত আলোচনা করব। এই গাইডটি আপনাকে আপনার পরবর্তী বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে।

| দেশের নাম | অঞ্চল (Region) | ভিসার ধরন | মেয়াদ | সাধারণ শর্তাবলী |
| ভুটান | এশিয়া | ভিসা ফ্রি | ১৪ দিন (এন্ট্রি পারমিট) | হোটেল বুকিং, পারমিট ফি (SDF) প্রযোজ্য। |
| নেপাল | এশিয়া | অন-অ্যারাইভাল | ৩০-৯০ দিন | রিটার্ন টিকিট, হোটেল বুকিং, আইডি কার্ড। |
| মালদ্বীপ | এশিয়া | অন-অ্যারাইভাল | ৩০ দিন | কনফার্ম হোটেল বুকিং, পর্যাপ্ত ডলার, রিটার্ন টিকিট। |
| শ্রীলঙ্কা | এশিয়া | ETA / অন-অ্যারাইভাল | ৩০ দিন | অনলাইনে বা পোর্টে ETA ফি প্রদান করতে হয়। |
| ইন্দোনেশিয়া | এশিয়া | অন-অ্যারাইভাল / ই-ভিসা | ৩০ দিন | *ভ্রমণের পূর্বে সর্বশেষ নিয়ম চেক করা জরুরি। |
| পূর্ব তিমুর | এশিয়া | অন-অ্যারাইভাল | ৩০ দিন | আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ ও হোটেল বুকিং। |
| সেশেলস | আফ্রিকা | ভিজিটরস পারমিট | ৩০ দিন | রিটার্ন টিকিট, ডিজিটাল ট্রাভেল অথোরাইজেশন। |
| ফিজি | ওশেনিয়া | ভিসা ফ্রি | ১২০ দিন | রিটার্ন টিকিট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট/ফান্ড। |
| বাহামা | ক্যারিবীয় | ভিসা ফ্রি | ৪ সপ্তাহ | ইউএস ভিসা থাকলে সুবিধা, রিটার্ন টিকিট। |
| বলিভিয়া | দ. আমেরিকা | অন-অ্যারাইভাল | ৯০ দিন | হোটেল বুকিং, ইয়েলো ফিভার টিকা কার্ড। |
| ভানুয়াতু | ওশেনিয়া | ভিসা ফ্রি | ৩০ দিন | রিটার্ন টিকিট, হোটেলের প্রমাণ। |
| বার্বাডোস | ক্যারিবীয় | ভিসা ফ্রি | ১৮০ দিন | পাসপোর্ট ও কনফার্ম টিকিট। |
| কম্বোডিয়া | এশিয়া | ই-ভিসা / অন-অ্যারাইভাল | ৩০ দিন | ছবি ও নির্দিষ্ট ফি ($30-$40)। |
ভূমিকা: বাংলাদেশী পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থান (২০২৫)
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স (Henley Passport Index) এবং গ্লোবাল মোবিলিটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশী পাসপোর্টের অবস্থান প্রতি বছর পরিবর্তিত হয়। ২০২৫ সালের প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে ভিসা ফ্রি বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পাচ্ছেন। যদিও ইউরোপ বা আমেরিকার মতো দেশগুলোতে ভিসার কড়াকড়ি রয়েছে, তবুও এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের অনেক সুন্দর দেশ বাংলাদেশীদের সাদরে গ্রহণ করে। Bangladeshi passport visa free countries list
ভ্রমণের আগে আমাদের দুটি মূল বিষয় বুঝতে হবে:
- ভিসা ফ্রি (Visa Free): আপনার শুধু পাসপোর্ট এবং টিকিট থাকলেই আপনি সেই দেশে প্রবেশ করতে পারবেন।
- অন-অ্যারাইভাল ভিসা (Visa on Arrival): দেশটিতে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর বা বর্ডার থেকে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে ভিসা সংগ্রহ করতে হয়।

এশিয়া মহাদেশ: কাছের গন্তব্য ও সহজ ভ্রমণ
বাংলাদেশীদের জন্য এশিয়ার দেশগুলো ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সাশ্রয়ী। নিচে এশিয়ার সেই সব দেশের তালিকা ও নিয়মাবলী দেওয়া হলো:
১. ভুটান (Bhutan) – সম্পূর্ণ ভিসা ফ্রি
বাংলাদেশীদের জন্য ভুটান হলো একমাত্র দেশ যেখানে কোনো ভিসার প্রয়োজন হয় না। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পর্যটকদের এখন ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ফি’ (SDF) দিতে হতে পারে। নেপাল ও মালদ্বীপ ভ্রমণ ২০২৫
- ভিসা টাইপ: ভিসা ফ্রি।
- ভ্রমণের মেয়াদ: সাধারণত এন্ট্রি পারমিট দেওয়া হয় ৭ দিনের জন্য (বাড়ানো সম্ভব)।
- প্রয়োজনীয়তা: পাসপোর্ট (নূন্যতম ৬ মাস মেয়াদ), হোটেল বুকিং কনফার্মেশন, এবং পোর্ট অফ এন্ট্রিতে এন্ট্রি পারমিট নেওয়া।
২. নেপাল (Nepal) – অন-অ্যারাইভাল
হিমালয়ের দেশ নেপাল বাংলাদেশীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। অন অ্যারাইভাল ভিসা দেশ তালিকা
- ভিসা টাইপ: অন-অ্যারাইভাল (কাঠমান্ডু ত্রিভুবন বিমানবন্দরে)।
- খরচ: সার্ক ভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশীদের জন্য বছরের প্রথম এন্ট্রিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভিসা ফি মওকুফ থাকতে পারে (তবে এটি পরিবর্তনশীল)।
- প্রয়োজনীয়তা: রিটার্ন টিকিট, হোটেল বুকিং এবং ইমিগ্রেশন ফর্ম পূরণ।
৩. মালদ্বীপ (Maldives) – অন-অ্যারাইভাল
নীল সমুদ্রের দেশ মালদ্বীপ বাংলাদেশীদের জন্য ৩০ দিনের অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রদান করে।
- ভিসা টাইপ: অন-অ্যারাইভাল (ফ্রি)।
- মেয়াদ: ৩০ দিন।
- শর্ত: কনফার্ম হোটেল বুকিং এবং হাতে পর্যাপ্ত ডলার থাকতে হবে। মালদ্বীপে ইমিগ্রেশন বেশ কড়াকড়ি করে রিটার্ন টিকিট ও হোটেলের ব্যাপারে।
৪. শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka) – ETA বা অন-অ্যারাইভাল
শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের জন্য আগে থেকে অনলাইনে ETA (Electronic Travel Authorization) করে নেওয়া ভালো, তবে অন-অ্যারাইভাল সুবিধাও চালু থাকে।
- ভিসা টাইপ: ETA / অন-অ্যারাইভাল।
- খরচ: নির্দিষ্ট ফি প্রযোজ্য।
- মেয়াদ: ৩০ দিন।
৫. ইন্দোনেশিয়া (Indonesia) – পরিবর্তনশীল
(বিদ্র: ইন্দোনেশিয়া মাঝে মাঝে বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা ফ্রি সুবিধা বন্ধ বা চালু করে। ২০২৫ সালে ভ্রমণের আগে লেটেস্ট আপডেট চেক করা জরুরি। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ই-ভিসা বা অন-অ্যারাইভাল প্রযোজ্য হতে পারে)।
৬. পূর্ব তিমুর (Timor-Leste)
- ভিসা টাইপ: অন-অ্যারাইভাল।
- মেয়াদ: ৩০ দিন।
আফ্রিকা মহাদেশ: রোমাঞ্চকর সাফারি ও প্রকৃতি
আফ্রিকার অনেক দেশ বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের খুব সহজে ভিসা দেয়। যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি সেরা গন্তব্য।
১. সেশেলস (Seychelles) – ভিজিটরস পারমিট
ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্রটি অত্যন্ত সুন্দর। এখানে কোনো ভিসার প্রয়োজন নেই, তবে একটি ‘ভিজিটরস পারমিট’ লাগে।
- সুবিধা: ভিসা ফ্রি (পারমিট অন অ্যারাইভাল)।
- মেয়াদ: ৩০ দিন পর্যন্ত।
- শর্ত: ডিজিটাল ট্রাভেল অথোরাইজেশন আগে থেকে পূরণ করা ভালো।
২. মাদাগাস্কার (Madagascar)
- ভিসা টাইপ: অন-অ্যারাইভাল।
- মেয়াদ: ৩০ থেকে ৯০ দিন।
- বিশেষত্ব: বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির জন্য বিখ্যাত।
৩. মৌরিতানিয়া (Mauritania)
- ভিসা টাইপ: অন-অ্যারাইভাল (নোয়াকচট বিমানবন্দরে)।
৪. রুয়ান্ডা (Rwanda)
- ভিসা টাইপ: অন-অ্যারাইভাল বা ই-ভিসা।
- মেয়াদ: ৩০ দিন।
৫. সোমালিয়া ও টোগো (Somalia & Togo)
- ভিসা টাইপ: অন-অ্যারাইভাল।
- মেয়াদ: ৭ থেকে ৩০ দিন (দেশভেদে ভিন্ন)।

অন্যান্য আফ্রিকান দেশ (অন-অ্যারাইভাল):
- বেনিন (Benin)
- কেপ ভার্দে (Cape Verde)
- কমোরোস (Comoros)
- গাম্বিয়া (The Gambia) – নির্দিষ্ট শর্তে ভিসা ফ্রি।
- লেসোথো (Lesotho) – ই-ভিসা বা অন-অ্যারাইভাল।
- উগান্ডা (Uganda) – ই-ভিসা/অন-অ্যারাইভাল।
ওশেনিয়া অঞ্চল: দ্বীপরাষ্ট্র ও প্রশান্ত মহাসাগর
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক ছোট ছোট দ্বীপ দেশ বাংলাদেশীদের ভিসা ফ্রি প্রবেশের অনুমতি দেয়।
১. ফিজি (Fiji)
- ভিসা টাইপ: ভিসা ফ্রি।
- মেয়াদ: ১২০ দিন পর্যন্ত।
- শর্ত: রিটার্ন টিকিট এবং ফিজিতে থাকার জন্য পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ।
২. ভানুয়াতু (Vanuatu)
- ভিসা টাইপ: ভিসা ফ্রি।
- মেয়াদ: ৩০ দিন।
৩. কুক আইল্যান্ডস (Cook Islands)
- ভিসা টাইপ: ভিসা ফ্রি।
- মেয়াদ: ৩১ দিন।
৪. মাইক্রোনেশিয়া (Micronesia)
- ভিসা টাইপ: ভিসা ফ্রি।
- মেয়াদ: ৩০ দিন।
অন্যান্য দেশ:
- নিউই (Niue) – ৩০ দিন ভিসা ফ্রি।
- সামোয়া (Samoa) – ৬০ দিন এন্ট্রি পারমিট অন অ্যারাইভাল।
- টুভালু (Tuvalu) – ১ মাস অন-অ্যারাইভাল।
আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল
আমেরিকা মহাদেশে সরাসরি ভিসা ফ্রি দেশ কম হলেও, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে বাংলাদেশীদের জন্য দারুণ সুযোগ রয়েছে।
১. বাহামা (Bahamas)
- ভিসা টাইপ: ভিসা ফ্রি।
- মেয়াদ: ৪ সপ্তাহ থেকে ৩ মাস।
- শর্ত: বৈধ পাসপোর্ট এবং রিটার্ন টিকিট।
২. বার্বাডোস (Barbados)
- ভিসা টাইপ: ভিসা ফ্রি।
- মেয়াদ: ১৮০ দিন (৬ মাস)।
৩. ডমিনিকা (Dominica)
- ভিসা টাইপ: ভিসা ফ্রি।
- মেয়াদ: ১৮০ দিন।
৪. হাইতি (Haiti)
- ভিসা টাইপ: ভিসা ফ্রি।
- মেয়াদ: ৯০ দিন।
৫. জামাইকা (Jamaica)
- ভিসা টাইপ: ভিসা ফ্রি।
- শর্ত: নির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলী পূরণ সাপেক্ষে (যেমন- ভ্যাকসিনেশন, হোটেল বুকিং)।
৬. বলিভিয়া (Bolivia) – দক্ষিণ আমেরিকা
দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে বলিভিয়া বাংলাদেশীদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা দেয়।
- ভিসা টাইপ: অন-অ্যারাইভাল।
- খরচ: প্রায় $১৬০ ডলার (পরিবর্তনযোগ্য)।
- শর্ত: হোটেল বুকিং এবং ইয়োলো ফিভার ভ্যাকসিনেশন কার্ড।

ই-ভিসা (e-Visa): ঘরে বসেই সহজ ভিসা
যদিও এগুলো “ভিসা ফ্রি” নয়, তবুও ই-ভিসার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ হওয়ায় এগুলোকে এই তালিকায় রাখা হলো। ২০২৫ সালে বাংলাদেশীদের জন্য জনপ্রিয় ই-ভিসা দেশগুলো হলো: ই-ভিসা প্রসেসিং বাংলাদেশ
- মালয়েশিয়া (Malaysia): ই-ভিসা পাওয়া এখন বেশ সহজ।
- তুরস্ক (Turkey): যদি আপনার বৈধ ইউএস (USA), ইউকে (UK), বা শেনজেন (Schengen) ভিসা থাকে, তবে আপনি সহজেই তুরস্কের ই-ভিসা পেতে পারেন।
- থাইল্যান্ড (Thailand): থাইল্যান্ডে অন-অ্যারাইভাল ভিসা চালু আছে (যদিও বিমানবন্দরে লম্বা লাইন হয়) এবং ই-ভিসা আবেদনও করা যায়।
- ভিয়েতনাম (Vietnam): বাংলাদেশীদের জন্য ই-ভিসা চালু করেছে ভিয়েতনাম, যা ভ্রমণকে অনেক সহজ করেছে।
ই-ভিসা সংক্রান্ত আমাদের আর্টিকেল পড়ুন- তুরস্ক ই-ভিসা বাংলাদেশীদের জন্য – ৫ মিনিটে আবেদন প্রক্রিয়া, সম্পূর্ণ গাইড ২০২৫
অন-অ্যারাইভাল বা ভিসা ফ্রি ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি (YMYL গাইডলাইন)
আরো তথ্য পেতে পড়ুন- থাইল্যান্ড ভিসা বাংলাদেশীদের জন্য ২০২৫ – সম্পূর্ণ গাইড ও সর্বশেষ নিয়ম
“ভিসা ফ্রি” মানেই এই নয় যে আপনি শুধু পাসপোর্ট হাতে নিয়ে বিমানে উঠে পড়বেন। ইমিগ্রেশন অফিসার আপনাকে দেশে প্রবেশের অনুমতি নাও দিতে পারেন যদি আপনার কাগজপত্র সঠিক না থাকে। নিচে একটি চেকলিস্ট দেওয়া হলো:
১. পাসপোর্টের মেয়াদ
আপনার পাসপোর্টের মেয়াদ ভ্রমণের দিন থেকে অন্তত ৬ মাস থাকতে হবে। এবং পাসপোর্টে অন্তত ২-৩টি খালি পৃষ্ঠা থাকা বাঞ্ছনীয়।
২. কনফার্ম রিটার্ন টিকিট (Return Ticket)
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা ফ্রি বা অন-অ্যারাইভাল দেশে প্রবেশের প্রধান শর্ত হলো আপনার ফিরে আসার টিকিট কনফার্ম থাকতে হবে।
৩. হোটেল বুকিং (Hotel Booking)
আপনি কোথায় থাকবেন, তার প্রমাণপত্র। ভুয়া বুকিং (Dummy Booking) এড়িয়ে চলুন। Agoda বা Booking.com থেকে ‘Pay at Hotel’ অপশন ব্যবহার করে জেনুইন বুকিং করুন।
৪. অর্থের প্রমাণ (Proof of Funds)
আপনার ভ্রমণের খরচ বহন করার ক্ষমতা আছে কি না, তা ইমিগ্রেশন অফিসার যাচাই করতে পারেন।
- পাসপোর্টে ডলার এনডোর্সমেন্ট (Endorsement) থাকতে হবে।
- সাথে নগদ ডলার রাখা ভালো (দেশভেদে ৫০০-১০০০ ডলার)।
- আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড থাকলে সেটিও প্রদর্শন করতে পারেন।
৫. অন্যান্য কাগজপত্র
- ভ্যাকসিন সার্টিফিকেট: কিছু আফ্রিকান ও দক্ষিণ আমেরিকান দেশের জন্য ‘ইয়েলো ফিভার’ (Yellow Fever) টিকা কার্ড বাধ্যতামূলক।
- আমন্ত্রণপত্র (যদি থাকে): কেউ স্পন্সর করলে তার লেটার।
- পেশার প্রমাণপত্র: ভিজিটিং কার্ড বা অফিসের এনওসি (NOC) বা স্টুডেন্ট আইডি কার্ড। এটি প্রমাণ করে যে আপনি দেশে ফিরে আসবেন।
ইমিগ্রেশন টিপস: কীভাবে রিজেকশন এড়াবেন?
অনেক সময় ভিসা ফ্রি দেশেও ইমিগ্রেশন থেকে যাত্রীদের ফেরত পাঠানো হয় (Deportation)। এটি এড়াতে নিচের টিপসগুলো মেনে চলুন:
- আত্মবিশ্বাস (Confidence): ইমিগ্রেশন অফিসারের প্রশ্নের উত্তর আত্মবিশ্বাসের সাথে দিন। নার্ভাস হলে তারা সন্দেহ করতে পারে।
- সত্য তথ্য: কেন এসেছেন? কতদিন থাকবেন? কোথায় থাকবেন? এই প্রশ্নের উত্তর যেন আপনার কাগজপত্রের সাথে মিলে যায়।
- পোশাক-আশাক: মার্জিত পোশাক পরুন। পর্যটক হিসেবে আপনার উপস্থিতি যেন ইতিবাচক হয়।
- ভাষা: ইংরেজি ভাষায় সাধারণ যোগাযোগের দক্ষতা থাকা জরুরি। যদি বুঝতে না পারেন, বিনীতভাবে আবার জিজ্ঞেস করুন।
আরও পড়ুন- মালয়েশিয়া ট্যুরিস্ট ভিসা ২০২৫ – eVisa আবেদন প্রক্রিয়া (স্টেপ বাই স্টেপ)
সতর্কবাণী ও ডিসক্লেমার (Disclaimer)
সতর্কতা: অবৈধভাবে কোনো দেশে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। এতে শুধু আপনার নয়, দেশের ভাবমূর্তিও নষ্ট হয় এবং ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ভিসা ফ্রি সুবিধা শুধুমাত্র পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদী ভ্রমণের জন্য। কাজ করার জন্য বা স্থায়ীভাবে থাকার জন্য নয়।
ডিসক্লেমার: ভিসা নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। এই আর্টিকেলে দেওয়া তথ্য ২০২৪-২৫ সালের লভ্য তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। ভ্রমণের পূর্বে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা তাদের অফিসিয়াল ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেবেন। কোনো এয়ারলাইন্স বা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর লেখকের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: আমি কি শুধু পাসপোর্ট নিয়ে নেপাল যেতে পারব? উত্তর: হ্যাঁ, তবে সাথে ভোটার আইডি কার্ড বা জন্ম নিবন্ধন এবং রিটার্ন টিকিট রাখা জরুরি। নেপালে অন-অ্যারাইভাল ভিসা পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ২: ভিসা ফ্রি দেশে কি কাজের অনুমতি আছে? উত্তর: না। ভিসা ফ্রি বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা শুধুমাত্র পর্যটন বা ব্যবসায়িক মিটিংয়ের জন্য। এই ভিসায় কাজ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
প্রশ্ন ৩: ট্রানজিট ভিসা কি? উত্তর: আপনি যদি এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার পথে তৃতীয় কোনো দেশে থামেন (যেমন কাতার বা দুবাই), এবং সেখানে বিমানবন্দর থেকে বের হতে চান, তখন ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজন হয়। অনেক দেশে ৪৮-৯৬ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসা পাওয়া যায়।
শেষ কথা
বাংলাদেশী পাসপোর্টের র্যাঙ্কিং হয়তো খুব বেশি শক্তিশালী নয়, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এই পাসপোর্ট দিয়েই আপনি বিশ্বের বিস্ময়কর সব জায়গা ভ্রমণ করতে পারেন। ভুটানের পাহাড় থেকে মালদ্বীপের সমুদ্র, কিংবা আফ্রিকার জঙ্গল—সবই আপনার অপেক্ষায়।
২০২৫ সাল হোক আপনার ভ্রমণের বছর। নিয়ম মেনে চলুন, বৈধভাবে ভ্রমণ করুন এবং বিশ্বকে জানুন। আপনার ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক হোক!
